ভোটের লড়াই : সুনামগঞ্জ-১
সুবিধাজনক অবস্থানে কামরুজ্জামান কামরুল
★ দলীয় ঐক্যই হবে ধানের শীষের জয়ের ‘টার্নিং পয়েন্ট’
স্টাফ রিপোর্টার ::
তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর - এই চার উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-১ আসনটি আয়তনের দিক থেকে জেলার সবচেয়ে বড় সংসদীয় আসন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯০ হাজার ৬২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪০ হাজার ৯১৫ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৬৮টি।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বাধীনতার পর এই আসন থেকে ৬ বার আওয়ামী লীগ, ২ বার কমিউনিস্ট পার্টি এবং একবার করে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি এবার নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল (ধানের শীষ), ১০ দলীয় জোটভুক্ত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর তোফায়েল আহমদ (দাঁড়িপাল্লা) এবং নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মোজাম্মেল হক তালুকদার (বই)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসনটিতে মাত্র একবার বিজয়ী হলেও বর্তমানে শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থানের কারণে বিএনপি জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে মনোনয়ন ঘিরে দলীয় হাইকমান্ডের নাটকীয় সিদ্ধান্ত নির্বাচনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থেকেও চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়া আনিসুল হকের অনুসারীরা এই নির্বাচনে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
এলাকার সচেতন ভোটারদের মতে, চার উপজেলাজুড়ে আনিসুল হকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অনুসারী রয়েছেন। চূড়ান্ত মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ায় তাদের একটি অংশ হতাশ হয়ে নির্বাচনী মাঠে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। এমনকি সমর্থকদের একটি অংশ নীরবে জামায়াতকে সমর্থন দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সম্প্রতি এক কর্মীসভায় আনিসুল হক দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন।
আনিসুল হক তার বক্তব্যে বলেন, আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। দেশের মানুষ সেটি জানে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে মনোনয়ন কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমি দলের প্রধানের সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছেন দলের পক্ষে কাজ করতে। দলীয় প্রধান যখন এটি বলেন, তখন আমাদের আর কিছু বলার থাকে না। আমি বিএনপির একজন কর্মী। ধানের শীষ ছাড়া আমাদের কোনো সমর্থন থাকতে পারে না। নির্বাচনে আমরা ধানের শীষের পক্ষেই থাকবো।
এদিকে নির্বাচনী সমীকরণে জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল এগিয়ে রাখছেন তার অনুসারীরা। প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন কামরুজ্জামান কামরুল। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় মনোনয়ন বঞ্চিত আনিসুলের অনুসারীদের কাছে টানছেন কামরুল।
দলীয় বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কথা জানিয়ে কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আমি চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর আনিসুল ভাইসহ সকল বলয়ের নেতাদের সাথে দেখা করেছি। আমার কাছে ধানের শীষের সকল কর্মীই সমান। আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিপুল ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হবে।
অপরদিকে এই আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী নেজামে ইসলামের মোজাম্মেল হক তালুকদারকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হলেও ‘স্থানীয় নেতাকর্মীর চাপে’ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর তোফায়েল আহমদ। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় জানান দিচ্ছেন নিজের সামর্থ্যের। তার অনুসারীরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে জামায়াতের রয়েছে মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তি। জেলা জামায়াতের আমীর সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ায় কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে রয়েছে বাড়তি উৎসাহ। এছাড়াও মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির বিবদমান পরিস্থিতি কাজে লাগতে পারে তোফায়েল আহমেদ খানের।
বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার মধ্যে নীরবে সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে জামায়াতের। তাই নির্বাচনে চমক দেখাতে পারেন তোফায়েল আহমদ খাঁন।
জামায়াতের প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খাঁন বলেন, আমরা ভোটারদের কাছ থেকে অনেক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ দাঁড়িপাল্লা সাদরে গ্রহণ করছে। তারা পরিবর্তন চায়, চায় নতুন কিছু। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
